আমাদের সম্পর্কে
জিকরা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ শিক্ষা, দাওয়াহ ও সর্বজনীন মানবকল্যাণে নিবেদিত একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশনটি সমাজের কল্যাণ, মানবসেবার প্রসার এবং দীন ইসলামের খেদমতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানবতার শিক্ষক, মানুষের মুক্তি ও শান্তির দূত, মানবসেবার আদর্শ মহানবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা, সমাজ-সংস্কার, বিশুদ্ধ ইসলামী ইলমের প্রচার ও প্রসার এবং একটি আদর্শ কল্যাণভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।
কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন ও সমাজ বিনির্মাণ করা এবং সালাফে সালিহীনের পথ অনুসরণ করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা জিকরা ফাউন্ডেশনের অন্যতম নীতি ও অঙ্গীকার।
নীতি ও আদর্শ
- পবিত্র কুরআন ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ।
- ইসলামের প্রাথমিক যুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিমদের (সালাফে সালিহীন) অনুসৃত পদ্ধতির আলোকে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক মধ্যমপন্থা অবলম্বন।
- উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখা।
- সৎকাজে উৎসাহ প্রদান ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সংহতকরণ।
- ইসলামী দাওয়াহ ও কার্যক্রমে উগ্রতা বা কঠোরতা পরিহার করে উদারতা ও সহনশীলতা অবলম্বন।
- দাওয়াহ ও কার্যক্রম পরিচালনায় প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং মানুষের কল্যাণকে আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখা।
- ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য দাওয়াহ ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
- জনগণের প্রদত্ত দান-সদকা ও সম্পদকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত মনে করে যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
- সংগৃহীত তহবিল ও ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
- পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মীদের সকল কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।
- প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা।
- সর্বস্তরের কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা এবং দুর্নীতি/অনিয়মকে প্রশ্রয় না দেওয়া।
- শিক্ষা, দাওয়াহ ও সেবামূলক কার্যক্রমে গুণগত মান বজায় রেখে সর্বত্র পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা।
- রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা।
- দক্ষ ও যোগ্য কর্মী নিয়োগ করা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি।
- দরিদ্র, অসহায়, এতিম, বিধবা ও দুর্যোগকবলিত মানুষকে সেবা কার্যক্রমে অগ্রাধিকার প্রদান।
- দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা।
- সাময়িক সহযোগিতার চেয়ে টেকসই উন্নয়ন ও স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
- দারিদ্র্য বিমোচন, আর্তমানবতার সেবা ও সমৃদ্ধ দেশ গঠন।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে উপদ্রুত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ ও দুর্যোগ পরবর্তীতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা।
- সুপেয় পানির সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নলকূপ ও পানি শোধনাগার স্থাপন।
- সাদাকায়ে জারিয়াহ, পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাবলম্বীকরণের লক্ষ্যে অধিক ফলনশীল বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা।
- রমযান মাসে অভাবগ্রস্তদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
- সচ্ছলদের পক্ষ থেকে কুরবানীর আয়োজন করে অসচ্ছলদের মধ্যে বিতরণ।
- শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান।
- এতিমদের পরিণত হওয়ার পর্যন্ত অভিভাবকের দায়িত্বে শিক্ষাদান ও প্রতিপালন।
- উপযোগী উপার্জন উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে স্থায়ী টেকসই স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রম পরিচালনা।
- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা।
- শিরক-বিদআদ এবং প্রান্তিকতা দূরকরণে দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা।
- সৎকাজে উৎসাহ দান এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা।
- নবী কারীম (সা.)-এর মসজিদের আদলে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর সমাজ গঠনে সহায়ক আদর্শ মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা।
- বিষয়বিশেষে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, অডিটোরিয়াম প্রভৃতি সমাগমস্থলে সাপ্তাহিক, মাসিক, বার্ষিক ও উপলক্ষ-সাময়িক দ্বীনি হালাকাহ, মুক্ত মতবিনিময় ও আলোচনা-সভা আয়োজন।
- বিশুদ্ধ ইসলামিক জ্ঞান, আকীদা, কর্মনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মৌলিক ও প্রামাণ্য বইপত্র প্রকাশ ও প্রচার।
- দারিদ্র্য বিমোচন, আর্তমানবতার সেবা ও সমৃদ্ধ দেশ গঠন।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে উপদ্রুত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ ও দুর্যোগ পরবর্তীতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা।
- সুপেয় পানির সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নলকূপ ও পানি শোধনাগার স্থাপন।
- সাদাকায়ে জারিয়াহ, পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাবলম্বীকরণের লক্ষ্যে অধিক ফলনশীল বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা।
- রমযান মাসে অভাবগ্রস্তদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
- সচ্ছলদের পক্ষ থেকে কুরবানীর আয়োজন করে অসচ্ছলদের মধ্যে বিতরণ।
আয়-ব্যয়ের নীতিমালা
- বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত স্বেচ্ছা অনুদান ও অর্থসহায়তা।
- সদস্য, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এককালীন ও নিয়মিত অনুদান।
- ফাউন্ডেশনের যে কোনো প্রকল্পের জন্য সংগৃহীত অর্থ।
- সচ্ছল মুসলিমদের প্রদেয় যাকাত।
- ইফতার ও কুরবানীসহ বিশেষ বিশেষ খাতে উসুলকৃত অর্থ।
- ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আয়।
- দাতাগণের দানের অর্থ শরয়ী নীতিমালা ও দেশীয় আইনের আলোকে ব্যয় করা হয়।
- দাতাগণ যে খাতের জন্য দান করে থাকেন, সে খাতেই ব্যয় করা হয়। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয় না।
- যাকাত তহবিলে সংগৃহীত অর্থের শতভাগ হকদারদের মাঝে বণ্টন করা হয়। ব্যবস্থাপনার কাজে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা হয় না। এক্ষেত্রে সাধারণ খাতের অর্থ ব্যয় করা হয়।
- প্রতিটি প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সংরক্ষণ করা হয়।
- ছরে একবার চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট দ্বারা ফাউন্ডেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব নীরিক্ষণ করা হয় এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সরাসরি ব্যবস্থাপনা
কোনো প্রকল্প সঠিকভাবে ও সফলতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থাপনা ব্যয় অপরিহার্য। প্রকল্প পরিচালনার অংশ হিসেবে স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়। এর অন্তর্ভুক্ত—
পরিবহন ব্যয়: প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট মালামাল পরিবহন, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের যাতায়াত খরচ।
খাবার: প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের খরচ।
শ্রমিক বিল: প্রয়োজন অনুসারে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক প্রদান।
প্যাকেজিং সামগ্রী: উপকরণ সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য প্যাকেজিংয়ের খরচ।
বিবিধ: প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচ।
🔎 আমরা নিশ্চিত করি, প্রতিটি অনুদান যেন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে যায়। স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতার সাথে প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পরোক্ষ ব্যবস্থাপনা
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে কিছু প্রশাসনিক ব্যয় অপরিহার্য। এ ব্যয় সর্বোচ্চ ৭%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এর অন্তর্ভুক্ত—
কর্মীদের বেতন: প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মীদের বেতন।
প্রাত্যহিক দাফতরিক খরচ: অফিসের বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, টেলিফোন বিল ইত্যাদি।
সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র: কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফার্নিচার, স্টেশনারি ইত্যাদি।
আইনি ও হিসাবরক্ষণ খরচ: অডিট ফি, আইনজীবী ফি, লিগ্যাল পরামর্শ ও ট্যাক্স সংক্রান্ত ব্যয়।
পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়: অফিসিয়াল কাজের জন্য ম্যানেজমেন্ট টিমের যাতায়াত ও পরিবহন খরচ।
ফান্ডরেইজিং ও মার্কেটিং খরচ: অনুদান সংগ্রহ ও দাতাদের সাথে যোগাযোগের জন্য প্রচার, ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন ইত্যাদি।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের ব্যয়।
নিরাপত্তা খরচ: অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নি-নিরাপত্তা খরচ।
আইটি ও সফটওয়্যার খরচ: অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, ক্লাউড সার্ভিস, ইমেইল সাবস্ক্রিপশন ইত্যাদি।
কেন দাফতরিক ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ?
✅ একটি সেবামূলক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা ও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে এটি অপরিহার্য।
✅ অনুদানের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সঠিক হিসাব সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করে।
✅ দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করতে এবং ভালো ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়।
✅ দাতাদের আস্থা অর্জনের জন্য সংস্থার পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সহায়ক।